শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ও হবিগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুই জেলায় পুলিশসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুরে জেলা বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধসহ বিএনপির ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে আহত নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন বিকালে পদযাত্রা কর্মসূচির জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুরে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিকাল ৩টা থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারী, আড়াইহাজারের মাহমুদুর রহমান সুমন, সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কাঁচপুরে জড়ো হন। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে পুলিশ। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এতে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তার পাশে অবস্থান নেওয়ার সময় অতর্কিত লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর টিয়ারশেল ও গুলি ছুড়েছে। এতে আমাদের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া ২৫ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হন।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদসহ ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’ এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা বলেন, ‘বিএনপি অনুমতি না নিয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে গেলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। পরে তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। জানমাল রক্ষার্থে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’